আগুন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা
গ্যাসের গন্ধ পেলে প্রথম কাজটা কী, ১৫ তলা ভবনে আগুন লাগলে কোন পথে নামবেন, আর কোন নম্বরে ফোন করবেন।
গ্যাসের গন্ধ পেলে — প্রথম ৩০ সেকেন্ড
এই অংশটুকু আগে পড়ুন, কারণ ভুল কাজটি করতে এক সেকেন্ড লাগে। গ্যাসের গন্ধ পেলে —
- কোনো সুইচ স্পর্শ করবেন না — চালু করাও না, বন্ধ করাও না। সুইচের স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট।
- লাইট জ্বালাবেন না, ফ্যান চালাবেন না, মোবাইলে কল করবেন না ঘরের ভেতরে।
- দরজা-জানালা খুলে দিন, বাতাস চলতে দিন।
- চুলার ও সিলিন্ডারের চাবি বন্ধ করুন, যদি নিরাপদে নাগালে থাকে।
- সবাইকে নিয়ে বেরিয়ে যান, তারপর বাইরে থেকে ফোন করুন।
তিতাস গ্যাসের অভিযোগ নম্বর **১৬৪৯৬**। জরুরি হলে **৯৯৯**। বাংলাদেশে অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ও বিস্ফোরণের বড় একটি কারণ পুরোনো পাইপলাইন ও অননুমোদিত সংযোগ থেকে গ্যাস জমা — গন্ধকে কখনো "মনে হলো বোধহয়" বলে উড়িয়ে দেবেন না।
রান্নাঘর
ঝুঁকিটা প্রায় সবসময় একই তিন জায়গায়: চুলার সংযোগ, রেগুলেটর আর পাইপ। বছরে অন্তত দুবার নিজে দেখে নেওয়া যায়।
- সাবান-পানির ফেনা সংযোগে লাগান — বুদবুদ উঠলে লিক আছে। মিস্ত্রি না আসা পর্যন্ত ব্যবহার বন্ধ।
- রাবারের পাইপে ফাটল বা শক্ত হয়ে যাওয়া দেখলে বদলে ফেলুন; মেয়াদ থাকতেই বদলানো সস্তা।
- রাতে শোয়ার আগে চুলার মূল চাবি বন্ধ করার অভ্যাস করুন।
- চুলার ওপর বা পাশে কাপড়, কাগজ, প্লাস্টিক রাখবেন না।
- রান্নাঘরে একটি ছোট অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখুন এবং মেয়াদ দেখে রাখুন।
সিলিন্ডার ব্যবহার করলে
- সিলিন্ডার সোজা করে রাখুন — কাত করে বা গড়িয়ে নয়।
- বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন, রোদ ও তাপ থেকে দূরে।
- চুলার নিচে বা একেবারে গা ঘেঁষে রাখবেন না।
- ব্যবহার না করলে সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন।
- বেসমেন্ট বা সিঁড়ির নিচে সিলিন্ডার জমা করবেন না — গ্যাস ভারী, নিচেই জমে।
বিদ্যুৎ
নতুন ফ্ল্যাটের ওয়্যারিং যে লোড ধরে নকশা করা, এসি ও হিটার যোগ হতে হতে সেটি প্রায়ই ছাড়িয়ে যায়। ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডের MCB বারবার পড়ে গেলে সেটি বিরক্তি নয় — সেটি সতর্কবার্তা।
- একটি মাল্টিপ্লাগে এসি, হিটার বা ইস্ত্রি চালাবেন না।
- তার গরম হয়ে যাওয়া, প্লাগে পোড়া দাগ বা পোড়া গন্ধ — সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রিশিয়ান।
- MCB বারবার ট্রিপ করলে সেটিকে বড় ক্ষমতার দিয়ে বদলাবেন না; কারণ খুঁজুন।
- বাথরুমে সুইচ ও সকেট ভেজা হাতে ধরবেন না।
- বছরে একবার ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে DB বোর্ড ও আর্থিং দেখিয়ে নিন।
আগুন লাগলে — ১৫ তলা ভবনে
উঁচু ভবনে সবচেয়ে বড় ভুল দুটি: লিফটে ওঠা, আর জিনিসপত্র গোছাতে সময় নষ্ট করা। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট থেমে যায় এবং সেটিই ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়।
- সিঁড়ি ব্যবহার করুন, লিফট নয় — কখনোই নয়।
- ধোঁয়ার মধ্যে নিচু হয়ে চলুন; পরিষ্কার বাতাস মেঝের কাছে থাকে।
- দরজা খোলার আগে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ছুঁয়ে দেখুন — গরম হলে খুলবেন না।
- বেরোতে না পারলে ভেজা কাপড় দিয়ে দরজার ফাঁক বন্ধ করে বারান্দায় গিয়ে সাহায্য চান।
- বেরিয়ে গেলে আর ফিরে ঢুকবেন না।
ভবনের নকশায় ফায়ার ফাইটিং রিজার্ভার ও ড্রাই টাইপ হাইড্রেন্ট আছে। থাকা আর কাজ করা এক নয় — বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো কমিটির কাজ, আর সেটি হয়েছে কি না জানতে চাওয়া আপনার অধিকার। সিঁড়ি ও করিডোরে মালপত্র রেখে পথ আটকে রাখা ঠিক সেই দিনটিতেই বিপদ ডেকে আনে।
নম্বরগুলো ফোনে সেভ করে রাখুন
- জাতীয় জরুরি সেবা — ৯৯৯ (পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স)
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স — ১০২ অথবা ১৬১৬৩
- তিতাস গ্যাস — ১৬৪৯৬
- ডেসকো (উত্তরার বিদ্যুৎ) — ১৬১২০
- ঢাকা ওয়াসা — ১৬১৬২ (সকাল ৮টা – রাত ১১টা)
- ভবনের গার্ড রুম ও কমিটির দুজন সদস্য
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- গ্যাসের গন্ধ পেলে সবার আগে কী করব?
- কোনো সুইচ ছোঁবেন না — চালু বা বন্ধ, কোনোটাই নয়। জানালা খুলে দিন, চাবি বন্ধ করুন যদি নিরাপদে পারেন, সবাইকে নিয়ে বেরিয়ে যান, তারপর বাইরে থেকে ফোন করুন।
- MCB বারবার পড়ে যাচ্ছে, বড়টা লাগিয়ে দিই?
- না। MCB পড়ছে মানে লাইনে সামর্থ্যের বেশি লোড যাচ্ছে। বড় MCB সেই সুরক্ষাটাই সরিয়ে দেয় — কারণ খুঁজে ঠিক করানোই একমাত্র পথ।
- আগুন লাগলে লিফট ব্যবহার করা যাবে?
- কখনো নয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট থেমে যায় এবং ভেতরে আটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সিঁড়িই একমাত্র পথ।
- ফায়ার হাইড্রেন্ট আছে কি না কীভাবে জানব?
- কমিটির কাছে জানতে চান শেষ কবে পরীক্ষা হয়েছে। ভবনের নকশায় রিজার্ভার ও হাইড্রেন্ট আছে, কিন্তু নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া সেটি কেবল যন্ত্রপাতি।
ruap.net একটি স্বতন্ত্র পোর্টাল, রাজউকের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এখানে যা লেখা আছে তা রাজউকের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও প্রসপেক্টাসের ভিত্তিতে, কিন্তু দাম, তারিখ ও শর্ত সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার বরাদ্দপত্র ও রাজউকের সর্বশেষ নোটিশ মিলিয়ে নিন।