চাবি বুঝে নেওয়া, দলিল ও নামজারি
চাবি হাতে পাওয়ার দিন কী দেখে নেবেন, তারপর দলিল রেজিস্ট্রেশন ও নামজারিতে কোন কাগজ লাগে।
হস্তান্তর কত দূর এগিয়েছে
ব্লক “এ”-এর ৭৯টি ভবনের নির্মাণ মূলত শেষ; প্রকল্প দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী প্রায় চার হাজার ফ্ল্যাটের চাবি বরাদ্দগ্রহীতাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। “বি” ও “সি” ব্লক পিছিয়ে আছে।
অর্থাৎ আপনি যদি এখন চাবি বুঝে নিচ্ছেন, আপনার আগে কয়েক হাজার মানুষ একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। নিজের ভবনের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া প্রায়ই দপ্তরে লাইনে দাঁড়ানোর চেয়ে দ্রুত কাজ দেয়।
চাবির দিনে যা দেখে নেবেন
সই করার আগে ফ্ল্যাট ঘুরে দেখে নিন। হস্তান্তরের দিনে লিখিতভাবে জানানো ত্রুটি আর ছয় মাস পরে জানানো একই ত্রুটির ওজন এক নয়।
- প্রতিটি বৈদ্যুতিক পয়েন্ট, সুইচ ও ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড — সবগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছাচ্ছে কি না।
- চারটি বাথরুম ও রান্নাঘরের পানির লাইন, ফ্লাশ, ট্যাপ এবং নিচের দিকে কোথাও চুইয়ে পড়া আছে কি না।
- দরজা-জানালা ঠিকমতো বন্ধ ও লক হয়; বারান্দার গ্রিল ও রেলিং মজবুত।
- মেঝে ও দেয়ালে ফাটল, স্যাঁতসেঁতে দাগ, টাইলসের ফাঁক।
- মিটার নম্বর — বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস — রিডিংসহ লিখে ও ছবি তুলে রাখুন।
- ফ্ল্যাট নম্বর, তলা ও ইউনিট বরাদ্দপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলছে কি না।
যা পাওয়া গেল তার ছবি তুলুন, তারিখসহ। ত্রুটি থাকলে হস্তান্তরের কাগজে লিখিতভাবে উল্লেখ করান — মুখের কথায় নয়।
দলিল রেজিস্ট্রেশন
চাবি পাওয়া আর মালিকানা এক জিনিস নয়। দখল বুঝে নেওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশন করাতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের খরচ — স্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিস্ট্রেশন ফি, স্থানীয় সরকার কর — ফ্ল্যাটের দামের বাইরের খরচ, তাই আগেই আলাদা করে হিসাবে রাখুন।
সাধারণত যা লাগে: বরাদ্দপত্র, দখল হস্তান্তরের কাগজ, সব কিস্তির পরিশোধের প্রমাণ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং রাজউকের ছাড়পত্র। নির্দিষ্ট তালিকাটি আপনার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও রাজউকের প্রকল্প দপ্তর থেকে মিলিয়ে নিন।
নামজারি — শেষ ধাপ, প্রায়ই বাদ পড়ে
দলিল হয়ে গেলেই কাজ শেষ নয়। নামজারি বা মিউটেশন করিয়ে রেকর্ডে আপনার নাম না ওঠা পর্যন্ত সরকারি খাতায় ফ্ল্যাটটি আগের নামেই থাকে। পরে বিক্রি করতে গেলে, ব্যাংক ঋণ নিতে গেলে বা উত্তরাধিকার বণ্টনে এই একটি কাগজ না থাকলেই কাজ আটকে যায়।
নামজারির পর হালনাগাদ খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ একসঙ্গে সংগ্রহে রাখুন। ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় ক্রেতা এগুলোই আগে চাইবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- চাবি পেলেই কি আমি মালিক?
- না। চাবি হস্তান্তর দখল বুঝিয়ে দেওয়া; মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশনের পর, আর সরকারি রেকর্ডে নাম ওঠে নামজারির পর।
- হস্তান্তরের দিন ত্রুটি পেলে কী করব?
- ছবি তুলে রাখুন এবং হস্তান্তরের কাগজে লিখিতভাবে উল্লেখ করান। মৌখিক অভিযোগের কোনো প্রমাণ থাকে না।
- রেজিস্ট্রেশনের খরচ কি ফ্ল্যাটের দামের মধ্যে?
- না। স্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিস্ট্রেশন ফি ও সংশ্লিষ্ট কর ফ্ল্যাটের মূল্যের বাইরের খরচ।
- নামজারি না করালে সমস্যা কী?
- সরকারি রেকর্ডে মালিক হিসেবে আপনার নাম উঠবে না। পরে বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ বা উত্তরাধিকারের সময় এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ruap.net একটি স্বতন্ত্র পোর্টাল, রাজউকের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এখানে যা লেখা আছে তা রাজউকের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও প্রসপেক্টাসের ভিত্তিতে, কিন্তু দাম, তারিখ ও শর্ত সময়ে সময়ে বদলায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার বরাদ্দপত্র ও রাজউকের সর্বশেষ নোটিশ মিলিয়ে নিন।