প্রতিরোধমূলক ভবন রক্ষণাবেক্ষণ১২ মিনিটনিজে করা যায়

ভবন রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক চেকলিস্ট: কমিটি ও কেয়ারটেকারের জন্য একটি পরিদর্শন-চক্কর

অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের যৌথ ব্যবস্থাগুলো—পাম্প, লিফট, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, ড্রেন—নিঃশব্দে খারাপ হতে থাকে, আর ধরা পড়ে ঠিক যেদিন সেগুলো সবচেয়ে বেশি দরকার। মাসে একবার লিখিতভাবে একটি ছোট পরিদর্শন-চক্কর দিলে বেশিরভাগ সমস্যা তখনই ধরা পড়ে, যখন সেগুলো সারানো সস্তা ও নিরাপদ।

সংক্ষেপে

মাসে একবার কেয়ারটেকার বা কমিটির একজন সদস্য পাম্পঘর থেকে ছাদ পর্যন্ত একই পথে ঘুরবেন এবং একই ফর্মে যা দেখলেন তা লিখবেন: পাম্প, ট্যাংক, লিফট, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বের হওয়ার পথ, ড্রেন, ছাদ ও কমন এরিয়ার বাতি।

এই চক্করের কাজ দেখা, শোনা আর লিখে রাখা। লিফট, জেনারেটর, অগ্নি-ব্যবস্থা, পাম্প প্যানেল ও বিদ্যুতের কাজ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঠিকাদারের; কমিটি ত্রুটি চিহ্নিত করে, রেকর্ড রাখে এবং ঠিকাদারের সার্ভিসিং আসলেই হচ্ছে কি না নিশ্চিত করে।[1][4]

মানুষের জন্য বিপজ্জনক যেকোনো কিছু—মেঝের সমান না থামা লিফট, মিটার রুমে পোড়া গন্ধ, আটকে থাকা সিঁড়ি বা হারানো অগ্নিনির্বাপক—সেদিনই জানাতে হবে।

সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে বেশিরভাগ কাজ নিজে করা যায়।

চৌদ্দতলা একটি RUAP ভবনে প্রতি তলায় ছয়টি ফ্ল্যাট, অর্থাৎ ৮৪টি পরিবার একই পাম্প, লিফট, সিঁড়ি ও ড্রেনের ওপর নির্ভর করে। এই চেকলিস্ট এমন ভবনের কথা ভেবে লেখা, তবে যৌথ সেবাসহ যেকোনো অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে কাজে লাগবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—সম্পদের তালিকা, বার্ষিক কাজ ও চুক্তি—নিয়ে আছে প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের সূচি কীভাবে বানাবেন।

মাসিক চক্কর কেন দরকার: যে সতর্কসংকেতগুলো ধরা পড়ে

যৌথ সেবার বেশিরভাগ বিকল হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সংকেত দেয়, কিন্তু কিছু বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাম্পঘর বা ছাদের দিকে কেউ তাকায় না। প্রাথমিক সংকেতগুলো হলো:

  • পাম্প স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় চলছে, ঘন ঘন চালু-বন্ধ হচ্ছে বা কর্কশ শব্দ করছে; এক পাম্প নির্মাতার ম্যানুয়াল কর্কশ শব্দ, বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ (arcing) ও অতিরিক্ত কম্পনকে তাৎক্ষণিক সার্ভিসের দরকার বলে ধরে।[7]
  • পাম্পঘরের মেঝেতে পানি, ভাল্‌ভ থেকে ফোঁটা পড়া, বা পাইপের নিচে মরিচা।
  • লিফট ল্যান্ডিংয়ের চেয়ে ওপরে বা নিচে থামছে, বা দরজা আটকে আটকে খুলছে বা জোরে বন্ধ হচ্ছে।
  • জেনারেটরে জ্বালানি কম, নিচে নতুন তেল বা কুল্যান্টের দাগ, বা প্যানেলে সতর্কবার্তা।
  • অগ্নিনির্বাপক নেই বা খালি, এক্সিট সাইন নিভে আছে, সিঁড়ি মালপত্র রাখার জায়গা হয়ে গেছে।
  • ছাদের নিষ্কাশন-মুখ ও কম্পাউন্ডের ড্রেনে পাতা, প্লাস্টিক ও পলি জমছে, বিশেষ করে বর্ষার আশপাশে।

শুরুতে ধরা পড়লে এর প্রতিটি সারানো সস্তা। ফেলে রাখলে তা হয়ে দাঁড়ায় পুড়ে যাওয়া পাম্প, আটকে যাওয়া লিফট, কিংবা লোডশেডিংয়ে চালু না হওয়া জেনারেটর।

কে কী করবেন: কেয়ারটেকার, কমিটি ও ঠিকাদার

এই চক্কর শুধু পর্যবেক্ষণের: প্যানেল খোলা, লিফট বা জেনারেটরের কন্ট্রোল বদলানো, বা আবদ্ধ জায়গায় (confined space) ঢোকা চলবে না। যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাট-ভবনের নির্দেশিকাও একই ভাগ করে: প্রশিক্ষিত নিজস্ব কর্মী সহজ পরীক্ষা করতে পারেন, কিন্তু অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার বেশিরভাগ পরীক্ষা ও সার্ভিসিংয়ে দক্ষ ঠিকাদার লাগে।[4] লিফটের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার মাঝখানে প্রশিক্ষিত নিজস্ব লোকের পরিদর্শন মেনে নেয়, তবে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা (thorough examination) করবেন একজন স্বাধীন, দক্ষ ব্যক্তি।[1]

কে কী পরীক্ষা করবেন
বিষয়মাসিক চক্কর (কেয়ারটেকার বা কমিটি)লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঠিকাদার
পাম্প ও কন্ট্রোল প্যানেলশব্দ, লিক, মরিচা, প্যানেলের ত্রুটি ও চলার ঘণ্টা[7]বৈদ্যুতিক ত্রুটি খোঁজা, সিল, বিয়ারিং, মোটর[7]
রিজার্ভার ও ছাদের ট্যাংকঢাকনা তালাবদ্ধ, ভেন্ট ও ওভারফ্লোতে জালপরিষ্কার, জীবাণুমুক্তকরণ, ট্যাংকে যেকোনো প্রবেশ
লিফটমেঝের সমান থামা, দরজা, অ্যালার্ম, বাতি, ফ্যান; সার্ভিস রেকর্ডরক্ষণাবেক্ষণ, উদ্ধার, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা[1]
জেনারেটরজ্বালানি, লিক, প্যানেলের সতর্কবার্তা, পরীক্ষামূলক চালনার রেকর্ড[6]তেল, ফিল্টার, কুল্যান্ট, ব্যাটারি, চেঞ্জওভার সুইচ[6]
অগ্নি-সরঞ্জামঅগ্নিনির্বাপক আছে, চার্জ আছে, সিল অক্ষত[4][5]বার্ষিক সার্ভিসিং, রিফিল, চাপ-পরীক্ষা[4]
বের হওয়ার পথ ও বাতিসিঁড়ি খালি, ফায়ার ডোর বন্ধ হয়, বাতি জ্বলেওয়্যারিং, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, জরুরি বাতির ব্যাটারি
ড্রেন ও ছাদনিষ্কাশন-মুখ ও গালি পরিষ্কার, পানি জমে নেইওয়াটারপ্রুফিং, ভাঙা পাইপ, বন্ধ স্ট্যাক

কমিটি কীভাবে এই দায়িত্ব ভাগ করে এবং বাসিন্দাদের কাছে জবাবদিহি করে, তা নিয়ে দেখুন আমাদের পুরোনো পাতা ভবন কমিটি পরিচালনা।

যে সরঞ্জাম ও রেকর্ড লাগবে

  • কাগজে বা ফোনে চেকলিস্ট—প্রতিটি বিষয়ের জন্য এক লাইন, পাশে মন্তব্যের জায়গা।
  • একটি টর্চ, আর তারিখ ও জায়গাসহ প্রতিটি ত্রুটির ছবি তোলার জন্য ফোনের ক্যামেরা।
  • লিফট, জেনারেটর, অগ্নি-সরঞ্জাম ও পাম্প ঠিকাদার, ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বারের ফোন নম্বর।
  • পাম্পঘর, জেনারেটর রুম, ছাদের দরজা ও ট্যাংকের ঢাকনার চাবি।
  • ঠিকাদারদের সার্ভিস শিট বা লগবুক, আর বাসিন্দাদের জন্য একটি নোটিশ বোর্ড।

ধাপে ধাপে: মাসিক পরিদর্শন-চক্কর

প্রতি মাসে একই পথে চলুন, যাতে কিছু বাদ না পড়ে এবং এক মাসের সঙ্গে পরের মাস মেলানো যায়:

  1. পাম্পঘর এবং ভূগর্ভস্থ রিজার্ভারের ওপরের অংশ।
  2. জেনারেটর রুম বা ঘের।
  3. মিটার ও মেইন সুইচ রুম—শুধু দরজা থেকে।
  4. লিফট লবি, তারপর প্রতিটি লিফটে একবার চড়া।
  5. সিঁড়ি দিয়ে তলায় তলায়: অগ্নি-সরঞ্জাম, দরজা ও বাতি।
  6. ছাদ: ট্যাংক ও নিষ্কাশন-মুখ, কিনারা থেকে দূরে থেকে।
  7. কম্পাউন্ডের ড্রেন ও গালি পিট।
  8. সেদিনই ফলাফল লিখে সারাংশ টাঙানো।
একটি উঁচু অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের প্রস্থচ্ছেদ: নিচে ভূগর্ভস্থ রিজার্ভার থেকে পাম্প হয়ে ছাদের ট্যাংক পর্যন্ত পানির পাইপ, নিচতলায় পাম্পঘর, লিফট ও মিটার রুম, পাশে জেনারেটর, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার তীরচিহ্ন, ছাদের নিষ্কাশন-মুখ ও ডাউনপাইপ এবং কম্পাউন্ডের ড্রেন; পরিদর্শনের ক্রম অনুযায়ী ১ থেকে ৯ নম্বর দেওয়া।
চিত্র 1 মাসিক চক্করের একটি পথ: নিচের যন্ত্রপাতি থেকে শুরু, তারপর লিফট, তলায় তলায় সিঁড়ি, ছাদ, এবং শেষে কম্পাউন্ড। নম্বরগুলো ক্রম নির্দেশ করে।
  1. পাম্পঘর এবং রিজার্ভারের ঢাকনা (শুধু বাইরে থেকে দেখা)
  2. জেনারেটর: জ্বালানি, লিক, প্যানেলের সতর্কবার্তা
  3. মিটার ও মেইন সুইচ রুম: শুধু দরজা থেকে দেখা
  4. লিফট লবি ও লিফটের কার
  5. প্রতিটি ল্যান্ডিংয়ে অগ্নিনির্বাপক, ফায়ার ডোর ও বের হওয়ার পথ
  6. সিঁড়ি ও করিডোরের কমন বাতি
  7. ছাদের ট্যাংক: ঢাকনা, ভেন্ট ও ওভারফ্লো
  8. ছাদের নিষ্কাশন-মুখ ও ডাউনপাইপ
  9. কম্পাউন্ডের ড্রেন ও গালি পিট
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

পাম্প ও পানির ট্যাংক

চলমান পাম্পের পাশে দাঁড়ান। পাম্প নির্মাতা জাইলেম (Xylem)-এর একটি বুস্টার-সেট ম্যানুয়াল ঘষা বা কর্কশ শব্দ, স্ফুলিঙ্গ ও কম্পনকে তাৎক্ষণিক সার্ভিসের দরকার বলে ধরে, এবং বলে অতিরিক্ত কম্পন থাকলে পাম্প চালানো উচিত নয়।[7] সিল, পাইপ ও ভাল্‌ভে ফোঁটা, মরিচা ও ঢিলা ফিটিং খুঁজুন, আর প্যানেলে কোনো ত্রুটি দেখালে লিখে নিন।[7] রিজার্ভার খালি থাকলে কখনো পাম্প চলতে দেবেন না: শুকনো অবস্থায় চালু করলে পাম্পের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।[7]

রিজার্ভার ও ছাদের ট্যাংকে বাইরে থেকে দেখুন ঢাকনা বন্ধ ও তালাবদ্ধ কি না, আর ভেন্ট ও ওভারফ্লোতে জাল আছে কি না। পরিষ্কারের বিষয় আছে পানির ট্যাংক রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকায়; ওপরের তলায় পানি কম এলে দেখুন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে পানির কম চাপ।

লিফট: দেখুন ও জানান

প্রতিটি লিফটে চড়ে কয়েকটি তলায় যান। দেখুন প্রতিটি ল্যান্ডিংয়ে মেঝের সমান থামে কি না, দরজা মসৃণভাবে চলে এবং বাধা পেলে আবার খোলে কি না, আর বাতি, ফ্যান ও অ্যালার্ম কাজ করে কি না; অ্যালার্ম পরীক্ষার আগে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে নিন। যুক্তরাজ্যের নির্দেশিকা এ ধরনের পরীক্ষাকে—ল্যান্ডিংয়ের দিক থেকে দরজা খোলা যায় না কি না তা-সহ—একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তির করণীয় পরিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে।[1] নিজে কখনো ল্যান্ডিং দরজা খুলবেন না।

তারপর সার্ভিস রেকর্ড পড়ুন। যুক্তরাজ্যে মানুষ বহনকারী লিফট অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার এমন একজন দক্ষ ব্যক্তিকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করাতে হয়, যিনি রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীন।[1] লিফটের নির্মাতা ও স্থানীয় নিয়মে কী দরকার তা ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করুন, এবং প্রতিটি ভিজিট লিখিত রাখার ওপর জোর দিন।

বাঁয়ে একটি লিফটের খোলা দরজা, যেখানে কারের মেঝে ল্যান্ডিংয়ের মেঝের চেয়ে সামান্য নিচে থেমে একটি ধাপ তৈরি করেছে, দরজার কিনারার সেন্সর, তলা-নির্দেশক ও কল বোতাম; ডানে কারের ভেতরের অংশ—অ্যালার্ম বোতামসহ কন্ট্রোল প্যানেল, বাতি, জরুরি বাতি, ফ্যান ও নোটিশ।
চিত্র 2 লিফটে যা দেখবেন এবং ঠিকাদারকে জানাবেন। কোনো সমন্বয় বা মেরামত নিজে করবেন না।
  1. কারের মেঝে ল্যান্ডিংয়ের সমান থামা উচিত; এমন ধাপ হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি—জানান
  2. দরজার কিনারা: পথে কিছু থাকলে দরজা আবার খুলে যাওয়া উচিত
  3. তলা-নির্দেশক ও ল্যান্ডিংয়ের কল বোতাম কাজ করছে
  4. অ্যালার্ম বা ইন্টারকম বোতাম (ঠিকাদারের সঙ্গে আগে কথা বলে পরীক্ষা)
  5. কারের বাতি ও জরুরি বাতি
  6. বায়ু চলাচলের ফ্যান
  7. নোটিশ: ঠিকাদারের ফোন নম্বর ও সর্বশেষ সার্ভিসের তারিখ
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

জেনারেটর

জ্বালানি দেখুন, জেনারেটরের নিচে নতুন তেল, জ্বালানি বা কুল্যান্ট খুঁজুন, আর প্যানেলের সতর্কবার্তা ও চলার ঘণ্টা লিখে নিন। জেনারাক (Generac)-এর স্থায়ী ডিজেল জেনারেটরের ম্যানুয়ালে লোড স্থানান্তর ছাড়া সপ্তাহে একবার প্রায় ১২ মিনিটের স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষামূলক চালনার (exercise) কথা আছে, এবং তরল, হোস ও রেডিয়েটরের নিয়মিত পরীক্ষা আর অনুমোদিত ডিলারকে দিয়ে পর্যায়ক্রমিক পরিদর্শনের দায়িত্ব মালিককে দেওয়া হয়েছে।[6] এই চালনা হচ্ছে কি না লিখে রাখুন; সার্ভিসিং, ব্যাটারি ও চেঞ্জওভার সুইচ ঠিকাদারের কাজ।

অগ্নিনির্বাপক, অ্যালার্ম ও বের হওয়ার পথ

প্রতিটি ল্যান্ডিংয়ে দেখুন অগ্নিনির্বাপক জায়গামতো ও বাধামুক্ত, গেজের কাঁটা সবুজ ঘরে, পিন ও সিল অক্ষত, হোস ভালো, আর সার্ভিস লেবেলের মেয়াদ আছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) অগ্নিনির্বাপকে গেজ থাকে না, তাই সিল ও লেবেল দেখুন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রের নিয়মে প্রতি মাসে চোখে দেখে পরীক্ষা ও প্রতি বছর রক্ষণাবেক্ষণ-পরীক্ষা বাধ্যতামূলক,[5] আর যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাট-ভবনের নির্দেশিকায় প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ প্রতি ১২ মাসে অগ্নিনির্বাপক রক্ষণাবেক্ষণ করেন, অন্যরা হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের খবর দেন।[4]

দেয়ালের ব্র্যাকেটে ঝোলানো একটি চাপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক—গেজ, সেফটি পিন ও সিল, হোস ও নজল, সার্ভিস ট্যাগ এবং সামনের খালি জায়গা দেখানো; ডানে গেজের বড় ছবি, যেখানে কাঁটা সবুজ ঘরে, এবং একটি ছোট গেজ যেখানে কাঁটা কম চাপের লাল ঘরে।
চিত্র 3 এক মিনিটের অগ্নিনির্বাপক পরীক্ষা। লাল ঘরে কাঁটা, ভাঙা সিল বা মেয়াদোত্তীর্ণ লেবেল দেখলে ঠিকাদারকে জানান।
  1. চাপের গেজ: কাঁটা সবুজ ঘরে মানে চার্জ আছে
  2. কাঁটা কম চাপের ঘরে: খালি বা লিক করছে—জানান
  3. কাঁটা বেশি চাপের ঘরে: অতিরিক্ত চার্জ—জানান
  4. সেফটি পিন ও টেম্পার সিল জায়গামতো
  5. হোস ও নজল: ফাটা, মোচড়ানো বা বন্ধ নয়
  6. সার্ভিস লেবেল: শেষ সার্ভিসের তারিখ এক বছরের মধ্যে
  7. সিলিন্ডার: টোল, মরিচা বা লিক নেই
  8. ব্র্যাকেটে ঝোলানো, চোখে পড়ে এবং সামনে বাধা নেই
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

জরুরি বাতিতে (emergency lighting) টেস্ট সুইচ থাকলে একই নির্দেশিকা প্রতি মাসে কার্যকারিতা পরীক্ষা ও বছরে একবার পূর্ণ সময়ের পরীক্ষার পরামর্শ দেয়, তবে ব্যাটারি রিচার্জের সময় বের হওয়ার পথ যেন অন্ধকার না থাকে।[4] এটি আরও বলে, ফায়ার অ্যালার্ম প্রতি সপ্তাহে একটি কল পয়েন্ট দিয়ে পরীক্ষা, ছয় মাস পরপর সার্ভিসিং, এবং ফায়ার মেইনের (ড্রাই রাইজার) আউটলেট অক্ষত ও স্ট্র্যাপ বা তালা দেওয়া আছে কি না তা ছয় মাস পরপর দেখা।[4] সিঁড়ি ও করিডোর মালপত্র ও দাহ্য জিনিসমুক্ত রাখতে হবে।[4] ফায়ার ডোর নিজে থেকে পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত; যুক্তরাজ্যে ১১ মিটারের বেশি উঁচু ভবনে প্রতি তিন মাসে ক্লোজার, ফাঁক, সিল, কবজা ও ক্ষতি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।[3]

যুক্তরাজ্যে অন্তত ১৮ মিটার বা সাততলা উঁচু আবাসিক ভবনে ফায়ারফাইটিং লিফট ও অত্যাবশ্যক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রতি মাসে পরীক্ষা করে ফলাফল বাসিন্দাদের দেখানোও বাধ্যতামূলক।[2] এটি ইংল্যান্ডের আইন, বাংলাদেশের নয়, তবে একটি কাজের মানদণ্ড; আপনার ভবনে কী প্রযোজ্য তা ঠিকাদার এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে জেনে নিন।

ড্রেন, ছাদ ও জমে থাকা পানি

ছাদে নিরাপদে পারলে নিষ্কাশন-মুখ থেকে আলগা পাতা ও প্লাস্টিক সরান, আর পানি জমা ও বন্ধ ডাউনপাইপ লিখে রাখুন বর্ষার আগের ছাদ পরিদর্শনের জন্য। কম্পাউন্ডের গালিতে পলি আছে কি না দেখুন; প্রধান ড্রেন বা স্ট্যাক বন্ধ হলে তা প্লাম্বারের কাজ, যেমনটি বলা আছে বন্ধ ড্রেন নিয়ে আমাদের নির্দেশিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) সপ্তাহে একবার পানি ধরে রাখে এমন সবকিছু খালি করা, ঘষে পরিষ্কার করা বা ঢেকে দেওয়া এবং জমানো পানি শক্তভাবে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়।[8] ২০২০ সালে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানের সময় বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ঢাকার ভবন মালিকদের ছাদ থেকে জমে থাকা পানি সরাতে বলেছিলেন।[9]

কমন এরিয়ার বাতি ও বৈদ্যুতিক কক্ষ

সিঁড়ি, করিডোর ও কম্পাউন্ডের নষ্ট বা মিটমিট করা বাতি লিখে রাখুন। মিটার ও সুইচ রুম দরজা থেকে দেখুন: এগুলো শুকনো, তালাবদ্ধ ও খালি থাকবে, পোড়া গন্ধ, গুনগুন শব্দ বা পোড়া দাগ থাকবে না। অস্বাভাবিক কিছু দেখলে ইলেকট্রিশিয়ানকে জানান; কোন সংকেতের কী মানে, তা আছে বিদ্যুতের সতর্কসংকেত নির্দেশিকায়।

মাসিক চেকলিস্ট

ভবনের মাসিক চক্কর
  • পাম্প: স্বাভাবিক শব্দ, তীব্র কম্পন বা লিক নেই; প্যানেলের ত্রুটি ও চলার ঘণ্টা লেখা।[7]
  • ট্যাংক: ঢাকনা বন্ধ ও তালাবদ্ধ; ভেন্ট ও ওভারফ্লোর জাল জায়গামতো।
  • লিফট: প্রতিটি কার মেঝের সমান থামে; দরজা বন্ধ হয় ও বাধা পেলে খোলে; অ্যালার্ম, বাতি ও ফ্যান চলে।
  • লিফট: শেষ সার্ভিস ভিজিট ও পরবর্তী পরীক্ষার তারিখ লগে লেখা।[1]
  • জেনারেটর: জ্বালানির মাত্রা, নতুন লিক নেই, প্যানেলে সতর্কবার্তা নেই, সাপ্তাহিক চালনা রেকর্ড করা।[6]
  • অগ্নিনির্বাপক: আছে, বাধামুক্ত, গেজ সবুজে, সিল অক্ষত, লেবেলের মেয়াদ আছে।[4][5]
  • জরুরি বাতি ও এক্সিট সাইন জ্বলছে; টেস্ট সুইচ থাকলে মাসিক পরীক্ষা হয়েছে।[4]
  • ফায়ার অ্যালার্ম প্যানেল (থাকলে): ফল্ট বাতি নেই; সাপ্তাহিক পরীক্ষা রেকর্ড করা।[4]
  • সিঁড়ি ও করিডোর খালি; ফায়ার ডোর নিজে থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়।[3][4]
  • ছাদের নিষ্কাশন-মুখ ও কম্পাউন্ডের ড্রেন পরিষ্কার; কোথাও পানি জমে নেই।[8]
  • কমন বাতি জ্বলছে; মিটার ও সুইচ রুম শুকনো, তালাবদ্ধ ও খালি।
  • ফলাফল লেখা, ছবি সংরক্ষিত, ত্রুটি জানানো, সারাংশ টাঙানো।[2]

সরবরাহ পাইপ, ভাল্‌ভ, ট্র্যাপ ও ফিক্সচারের বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য এর পাশাপাশি ব্যবহার করুন আমাদের প্লাম্বিং পরিদর্শন চেকলিস্ট।

বিজ্ঞাপন

সারা বছরের প্রতিরোধ: ঋতু অনুযায়ী রুটিন

তালিকা একই থাকে, তবে ঢাকার ঋতু অনুযায়ী গুরুত্ব বদলায়:

  • বর্ষার আগে (মোটামুটি এপ্রিল ও মে): ছাদের নিষ্কাশন-মুখ ও ড্রেনে বাড়তি নজর দিন এবং ছাদের পূর্ণ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করুন।
  • বর্ষায় (জুন থেকে অক্টোবর): ভারী বৃষ্টির পর ছাদ ও পাম্পঘরে পানি ঢুকেছে কি না দেখুন, আর প্রতি সপ্তাহে জমে থাকা পানি খুঁজুন।[8]
  • বেশি লোডশেডিংয়ের মাসে: জেনারেটরের চালনা ও জ্বালানি সরবরাহ রেকর্ড হচ্ছে কি না দেখুন, আর পাম্প বারবার চালু হচ্ছে কি না শুনুন।
  • বছরে একবার: প্রতিটি ঠিকাদারের বার্ষিক সার্ভিস রিপোর্ট মাসিক শিটের সঙ্গে ফাইলে রাখুন।

বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক কাজের পরিকল্পনা ও বাজেট কমিটির প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ সূচির অংশ।

ফলাফল লিখে রাখা ও পরবর্তী ব্যবস্থা

একটি চলমান লগে প্রতিটি ত্রুটির জন্য এক লাইন রাখুন: তারিখ, জায়গা, কী দেখা গেছে, ছবি, কাকে জানানো হয়েছে, আর কবে সারানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করুন মানুষের জন্য বিপদ আছে কি না। থাকলে জায়গাটি ঘিরে দিন বা লিফট বন্ধ রাখুন এবং সেদিনই ঠিকাদার ডাকুন; না থাকলে কমিটিকে জানান।

একটি প্রবাহচিত্র: চোখ (দেখা), লগ শিট ও ক্যামেরা (লেখা), সতর্কচিহ্নসহ সিদ্ধান্তের ঘর, লাল পথে ব্যারিয়ার ও ফোন (বিপদ হলে), সবুজ পথে কমিটি, তারপর রেঞ্চ (ঠিকাদারের মেরামত), এবং টিকচিহ্ন (বন্ধ করা), যেখান থেকে ড্যাশ লাইন আবার পরের মাসের দেখায় ফিরে যায়।
চিত্র 1 প্রতিটি ত্রুটির পরবর্তী ব্যবস্থা: লিখুন, বিপদ আছে কি না ঠিক করুন, ঠিকঠাক জানান, আর সারানো হলে তবেই লগ বন্ধ করুন।
  1. মাসিক চক্করে দেখা
  2. লগে লেখা: তারিখ, জায়গা ও ছবি
  3. সিদ্ধান্ত: মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক বিপদ আছে কি?
  4. হ্যাঁ: লোকজনকে দূরে রাখুন বা লিফট বন্ধ রাখুন, এবং সেদিনই ঠিকাদার বা ৯৯৯-এ ফোন করুন
  5. না: লগের তথ্যসহ কমিটিকে জানান
  6. লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঠিকাদার লিখিত সার্ভিস শিটসহ মেরামত করেন
  7. পরের চক্করে আবার দেখে লগ বন্ধ করুন
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

প্রতি মাসে বাসিন্দাদের জন্য সারাংশ টাঙান। যুক্তরাজ্যে উঁচু ভবনের অগ্নি-সরঞ্জাম পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক,[2] আর এতে বাসিন্দারা দেখেন যে সমস্যা জানালে কাজ হয়।

যে সাধারণ ভুলগুলো এড়াবেন

  • না দেখে টেবিলে বসে টিক দেওয়া, যা মিথ্যা আশ্বাস দেয়।
  • প্রতি মাসে পথ বা ফর্ম বদলানো, ফলে মাসগুলো মেলানো যায় না।
  • কেয়ারটেকারকে দিয়ে পাম্প বা জেনারেটরের কন্ট্রোল রিসেট করানো, বা লিফটের দরজা ‘ঠিক’ করানো।
  • লিখিত সার্ভিস শিট ছাড়াই ঠিকাদারের ভিজিট মেনে নেওয়া।
  • হারানো বা খালি অগ্নিনির্বাপক পরের সার্ভিস পর্যন্ত ফেলে রাখা; যুক্তরাজ্যের নির্দেশিকা পাওয়ামাত্র জানাতে বলে।[4]
  • সিঁড়ি বা ছাদকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা।

কখন সঙ্গে সঙ্গে পেশাদার ডাকবেন

  • লিফট: কেউ আটকে পড়েছেন, পেছনে কার না থাকলেও দরজা খুলে যায়, মেঝের সমান না থামা, ঝাঁকুনি বা অদ্ভুত শব্দ। লিফট বন্ধ রাখুন এবং ঠিকাদারকে ডাকুন।
  • জেনারেটর: জ্বালানি বা তেলের লিক, পরীক্ষামূলক চালনায় চালু না হওয়া, বা এক্সহস্টের ধোঁয়া ভবনে ঢোকা।[6]
  • পাম্প: কর্কশ শব্দ, স্ফুলিঙ্গ, তীব্র কম্পন, সিল দিয়ে পানি পড়া বা একটানা চলা; বৈদ্যুতিক ত্রুটিতে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান লাগবে।[7]
  • বিদ্যুৎ: পোড়া গন্ধ, পোড়া দাগ, গুনগুন শব্দ বা বোর্ডের কাছে পানি; দেখুন কখন যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান ডাকবেন।
  • অগ্নি-সরঞ্জাম: রিসেট না হওয়া অ্যালার্ম, ক্ষতিগ্রস্ত ফায়ার মেইন আউটলেট, বা বন্ধ না হওয়া ফায়ার ডোর।[4]

বাজেট এবং খরচ কীসে নির্ভর করে

চক্করের নিজের খরচ কেয়ারটেকারের সময় ছাড়া সামান্যই; আসল খরচ এর ফলে ঠিকাদারের যে কাজ লাগে তাতে। বাংলাদেশে লিফট, জেনারেটর, অগ্নি-সরঞ্জাম বা পাম্প সার্ভিস চুক্তির নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত দাম আমরা পাইনি, তাই কোনো অঙ্ক দেওয়া হয়নি। খরচ নির্ভর করে:

  • লিফট, পাম্প ও জেনারেটরের সংখ্যা ও বয়স, আর খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় কি না।
  • চুক্তিতে মজুরির সঙ্গে যন্ত্রাংশ ধরা আছে কি না, আর ঠিকাদারকে কত দ্রুত আসতে হবে।
  • জেনারেটরের জ্বালানি, যা লোডশেডিং দীর্ঘ হলে বাড়ে।
  • দেরি: সময়মতো বদলানো একটি লিক করা সিলের খরচ পুড়ে যাওয়া পাম্প মোটরের চেয়ে অনেক কম।

লিখিত কোটেশন তুলনা করুন মেরামতের কোটেশন নেওয়ার নির্দেশিকা দেখে; ভবন কীভাবে যৌথ খরচ জোগায় তা আছে সার্ভিস চার্জ ও ভবন ব্যবস্থাপনা পাতায়।

পরবর্তী পদক্ষেপ

  1. ঠিক করুন কে চক্কর দেবেন, মাসের কোন দিনে, আর ফলাফল কে পাবেন।
  2. আপনার ভবনের যন্ত্রপাতি অনুযায়ী চেকলিস্ট সাজান এবং পথ নির্দিষ্ট করুন।
  3. ঠিকাদারদের ফোন নম্বর ও সর্বশেষ সার্ভিস রেকর্ড সংগ্রহ করুন।
  4. প্রথম চক্কর দিন, সবকিছুর ছবি তুলুন, এবং সেটিকে ভিত্তি (baseline) হিসেবে ধরুন।
  5. বিপদ সেদিনই জানান এবং প্রতি মাসে বাসিন্দাদের জন্য সারাংশ টাঙান।[2]

সাধারণ জিজ্ঞাসা

মাসিক চক্কর কে দেবেন?
সাধারণত কেয়ারটেকার বা ভবন ব্যবস্থাপক, আর কয়েক মাস পরপর কমিটির একজন সদস্য সঙ্গে থাকবেন। তাঁর কাছে চাবি, টর্চ, ফর্ম ও ঠিকাদারদের নম্বর থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাট-ভবনের নির্দেশিকা বলে, প্রশিক্ষিত নিজস্ব কর্মী সহজ পরীক্ষা করতে পারেন, আর পরীক্ষা ও সার্ভিসিং করবেন ঠিকাদার।[4]
আমাদের কেয়ারটেকার কি লিফট পরীক্ষা বা রিসেট করতে পারেন?
না। তিনি লিফটে চড়ে দেখতে পারেন এটি কীভাবে থামে, অ্যালার্ম, বাতি ও ফ্যান কাজ করে কি না, এবং সার্ভিস রেকর্ড পড়তে পারেন। রিসেট, উদ্ধার ও মেরামত লিফট ঠিকাদারের কাজ, আর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা করবেন একজন স্বাধীন, দক্ষ ব্যক্তি।[1]
জেনারেটর কত দিন পরপর চালানো উচিত?
আপনার জেনারেটরের নিজস্ব ম্যানুয়াল মেনে চলুন। জেনারাকের স্থায়ী ডিজেল জেনারেটরের ম্যানুয়ালে সপ্তাহে একবার প্রায় ১২ মিনিটের স্বয়ংক্রিয় চালনার কথা আছে।[6] মাসিক চক্কর নিশ্চিত করে যে এই চালনা এবং জ্বালানি ও তরলের পরীক্ষা হচ্ছে ও রেকর্ড হচ্ছে।
অগ্নিনির্বাপক ব্যবহারযোগ্য কি না কীভাবে বুঝব?
গেজের কাঁটা সবুজে, পিন ও সিল জায়গামতো, হোস ভালো, সিলিন্ডারে টোল বা মরিচা নেই, আর সার্ভিস লেবেলের মেয়াদ আছে। CO2 অগ্নিনির্বাপকে গেজ না থাকায় সিল ও লেবেলের ওপর ভরসা করুন। সন্দেহ হলে ঠিকাদারের কাছে পাঠান, যাদের প্রতি বছর অগ্নিনির্বাপক সার্ভিস করার কথা।[4][5]
বাংলাদেশে ভবনের জন্য কি আইনগত কোনো মাসিক চেকলিস্ট আছে?
অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জন্য বাংলাদেশের কোনো সরকারি মাসিক চেকলিস্ট আমরা উদ্ধৃত করার মতো খুঁজে পাইনি। এই নির্দেশিকা ভালো চর্চা হিসেবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা ব্যবহার করেছে। আপনার ঠিকাদারদের জিজ্ঞেস করুন তাঁদের যন্ত্র ও স্থানীয় নিয়মে কী দরকার, আর অগ্নি-নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে জানতে চান।

তথ্যসূত্র

এই গাইডের তথ্যগুলো নিচের উৎসগুলো থেকে যাচাই করা হয়েছে।

  1. Thorough examination and testing of lifts: Simple guidance for lift owners (INDG339 rev1) — UK Health and Safety Executive (HSE) (প্রকাশিত January 2008 (rev1)). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  2. Fact sheet: Lifts and essential fire-fighting equipment (regulation 7) — Home Office (GOV.UK) (প্রকাশিত Last updated 24 July 2023). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  3. Fact sheet: Fire doors (regulation 10) — Home Office (GOV.UK) (প্রকাশিত Last updated 24 July 2023). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  4. Fire safety in purpose-built blocks of flats — Local Government Association, published on GOV.UK by the Home Office (প্রকাশিত 2011 (reissued with an interim note, 2024)). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  5. 1910.157 – Portable fire extinguishers — US Occupational Safety and Health Administration (OSHA). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  6. Owner's Manual: Stationary Diesel Generators, Residential and Commercial, 15-50 kW (Protector Series) — Generac. দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  7. TechnoForce and TechnoForce XLS Package System: Mechanical Installation, Operation, and Maintenance Manual (10-001-247 Rev 5) — Xylem (Bell & Gossett) (প্রকাশিত Rev 5). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  8. Mosquito Control at Home — US Centers for Disease Control and Prevention (CDC) (প্রকাশিত 16 April 2024). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  9. Anti-dengue drive: Govt to act against people with still water at home — The Financial Express (Bangladesh) (প্রকাশিত 30 April 2020). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
একটি সতর্কতা

এই গাইড সাধারণ তথ্যের জন্য। গ্যাস, ভবনের কাঠামো বা চালু বিদ্যুৎ সংযোগে কাজ দক্ষ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার দিয়ে করান। আপনার ভবনের নিয়ম বা কমিটির সিদ্ধান্ত এখানে লেখা কথার চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

উদ্ধৃত সূত্রগুলোর ভিত্তিতে RUAP.NET সম্পাদকীয় দল এটি লিখেছে। কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ান এটি পর্যালোচনা করেননি; গ্যাস, কাঠামো বা চালু বিদ্যুৎ-লাইনের কাজে যোগ্য পেশাদারের সাহায্য নিন।

কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান — আমরা যাচাই করে সংশোধন করি এবং সংশোধনের তারিখ লিখে রাখি। ভুল জানান →

০২

সম্পর্কিত গাইড

গাইড: কমিটি চালানো · গাইড: সার্ভিস চার্জ

বিজ্ঞাপন