বাথরুম ও ওয়াশরুম ফিটিংস১৪ মিনিটনিজে করা যায়

ওয়াশরুমের ফিটিংস রক্ষণাবেক্ষণ: পরিষ্কার, ডিস্কেলিং ও নিরাপত্তার নিয়মিত পরিকল্পনা

ভুল ক্লিনারে নষ্ট হওয়া ক্রোম, চুনের আস্তরে আটকে যাওয়া ট্যাপ, ঢিলে টাওয়েল রেল বা অবহেলিত গিজার: ওয়াশরুমের বেশির ভাগ সমস্যা নিয়মিত একটু যত্নেই এড়ানো যায়। এই গাইডে প্রতিটি ফিটিং কীভাবে পরিষ্কার ও পরীক্ষা করবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

সংক্ষেপে

প্রতিটি উপাদানের জন্য মানানসই ক্লিনার বেছে নিন। ক্রোমের ট্যাপে মৃদু সাইট্রিক অ্যাসিডভিত্তিক ক্লিনার কাপড়ে নিয়ে লাগান, অল্প সময় রেখে ধুয়ে ফেলুন; হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, ব্লিচ, ভিনেগার ও ঘষে পরিষ্কার করার পাউডার ক্রোমের ক্ষতি করতে পারে।[1] সিরামিকের বেসিন ও কমোড অনেক শক্ত, তবে সেখানেও ঘষার পাউডার ব্যবহার করবেন না।[2]

কখনো ব্লিচের সঙ্গে অ্যাসিড বা অ্যামোনিয়াযুক্ত ক্লিনার মেশাবেন না; এতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়।[4]

সপ্তাহে একবার পরিষ্কার, মাসে একবার ছোট পরিদর্শন: ট্যাপের ধারা, হেলথ ফসেটের হোস, ফ্লোর ট্র্যাপ, দেয়ালের ফিটিং, এগজস্ট ফ্যান। গিজারে মালিকের কাজ শুধু পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ পরীক্ষা; সার্ভিসিং ও বিদ্যুতের কাজ প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের।[7]

সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে বেশিরভাগ কাজ নিজে করা যায়।

ফ্ল্যাটের অন্য যেকোনো ঘরের চেয়ে ওয়াশরুমে সচল যন্ত্রাংশ বেশি: ট্যাপ, বেসিন, কমোড, হেলথ ফসেট, ফ্লোর ট্র্যাপ, এগজস্ট ফ্যান, অনেক সময় একটি গিজার, আর দেয়ালের রেল, আয়না ও কেবিনেট। যে ক্লিনার এক উপাদানের জন্য ভালো, সেটিই পাশেরটির ক্ষতি করতে পারে। RUAP-এর প্রতিটি ফ্ল্যাটে চারটি বাথরুম; তাই ছোট, নিয়মিত একটি রুটিন খরচের তুলনায় অনেক বেশি বাঁচায়।

ওয়াশরুমের ফিটিংস ও প্রতিটির কী দরকার

এই গাইডে পুরো ওয়াশরুমকে একটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হিসেবে দেখা হয়েছে: কী পরিষ্কার করবেন, কী দিয়ে, কত দিন পরপর, আর পরিষ্কারের সময় কী কী দেখে নেবেন। আলাদা যন্ত্রাংশের মেরামতের জন্য আলাদা গাইড আছে। ফোঁটা পড়া ট্যাপ, কার্ট্রিজ ও শাওয়ার ভাল্‌ভের জন্য দেখুন ট্যাপ, শাওয়ার ও ভাল্‌ভ রক্ষণাবেক্ষণ; ফ্লাশ চলতেই থাকলে বা দুর্বল হলে দেখুন কমোডের ফ্লাশের সমস্যা; আর কোথা থেকে পানি বেরোচ্ছে খুঁজতে দেখুন বাথরুমের লিক খোঁজা ও সারানো।

একটি ওয়াশরুমের দেয়ালের সামনের দৃশ্য: বাঁয়ে গিজার ও তার সেফটি ভাল্‌ভ থেকে ফ্লোর ট্র্যাপে নামা ডিসচার্জ পাইপ, মাঝখানে আয়না-কেবিনেটের নিচে ট্যাপসহ বেসিন, ওপরে এগজস্ট ফ্যান, টাওয়েল রেল, আর ডানে সিস্টার্নসহ কমোড ও হেলথ ফসেট; এগারোটি নম্বর দিয়ে নিয়মিত যত্নের জায়গাগুলো চিহ্নিত।
চিত্র 1 একটি ওয়াশরুমের যে ফিটিংসগুলো নিয়মিত যত্ন চায়। প্রতিটির পরিষ্কার ও পরীক্ষার নিয়ম গাইডে আলাদাভাবে দেওয়া আছে।
  1. বেসিনের ট্যাপ ও তার মুখের এরেটর, যেখানে চুন জমে
  2. গ্লেজ করা সিরামিকের বেসিন
  3. বেসিনের নিচে অ্যাঙ্গেল ভাল্‌ভ, ফ্লেক্সিবল হোস ও ট্র্যাপ
  4. আয়না-কেবিনেট: কবজা, তাক ও দেয়ালের ফিক্সিং
  5. টাওয়েল রেল ও তার দেয়ালের ব্র্যাকেট
  6. কমোডের প্যান, সিটের কবজা ও সিস্টার্ন
  7. হেলথ ফসেট: স্প্রে-হেড, হোস ও তার ভাল্‌ভ
  8. ফ্লোর ট্র্যাপের জালি
  9. এগজস্ট ফ্যানের গ্রিল
  10. দেয়ালে ঝোলানো বৈদ্যুতিক ওয়াটার হিটার (গিজার)
  11. গিজারের সেফটি ভাল্‌ভ ও ড্রেনে নামা ডিসচার্জ পাইপ
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

যে লক্ষণে বুঝবেন ফিটিংয়ে মনোযোগ দরকার

বেশির ভাগ ফিটিং নষ্ট হওয়ার আগে সংকেত দেয়। যত্নের রুটিনের সময় এগুলো দেখুন ও শুনুন:

  • ট্যাপ বা হেলথ ফসেটের পানি থেমে থেমে আসে, পাশে ছিটকায় বা ধীরে পড়ে; এরেটরে (aerator) চুনের আস্তর এর একটি সাধারণ কারণ।[3]
  • ট্যাপের মুখ, শাওয়ারহেড ও কমোডের কিনারায় সাদা শক্ত আস্তর, যা খরপানির খনিজের চিহ্ন।[9]
  • ক্রোম ঘোলা, দাগযুক্ত বা উঠে যাচ্ছে; ভুল ক্লিনারের ক্ষতি ঘষে-মেজে আর ঠিক করা যায় না।
  • রেল, আয়না বা কেবিনেট আলতো টানলেই নড়ে, কিংবা স্ক্রুর নিচে মরচের দাগ।
  • হেলথ ফসেটের হোস মোচড়ানো, ফাটা বা ফুলে আছে, কিংবা কোনো এক মাথায় ভেজা।
  • ফ্লোর ট্র্যাপ দিয়ে পানি ধীরে নামে বা গন্ধ আসে।
  • এগজস্ট ফ্যান শব্দ করে, ধীরে ঘোরে, বা গ্রিলের সামনে ধরা টিস্যু প্রায় টানেই না।
  • গিজারে: ডিসচার্জ পাইপ ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ফোঁটা পড়ে, প্লাগ গরম হয়, বা ব্রেকার বারবার ট্রিপ করে।

উপাদান চিনুন: ক্রোম, সিরামিক ও স্টেইনলেস স্টিল

ওয়াশরুম ফিটিংসের বেশির ভাগ ক্ষতি হয় পরিষ্কার করতে গিয়ে, ব্যবহারে নয়। মূল নিয়ম: উপাদান বুঝে ক্লিনার বাছুন, লেবেল পড়ুন, আর কাজ শেষে ধুয়ে ফেলুন।

ক্রোম-প্লেট করা ট্যাপ, মিক্সার ও শাওয়ারহেড

ক্রোম আসলে একটি পাতলা প্লেটিং। জার্মান ট্যাপ নির্মাতা হান্সগ্রোহে (Hansgrohe) মৃদু সাইট্রিক অ্যাসিডভিত্তিক ক্লিনার বোতলের মাত্রামতো ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলতে বলে, আর ক্লিনার ট্যাপে নয়, কাপড়ে স্প্রে করতে বলে। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে যে হাইড্রোক্লোরিক, ফর্মিক বা অ্যাসেটিক অ্যাসিড (ভিনেগারের অ্যাসিড) কিংবা ক্লোরিন ব্লিচযুক্ত ক্লিনার, আর ঘষার পাউডার ও স্কাউরার স্পঞ্জ উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে।[1] নিজের ব্র্যান্ডের যত্ন-নির্দেশিকা দেখে নিন।

সিরামিকের বেসিন ও কমোড

গ্লেজ করা সিরামিক অনেক বেশি শক্ত। ভিলেরয় অ্যান্ড বখ (Villeroy & Boch) তাদের গ্লেজ করা সিরামিককে সাধারণ গৃহস্থালি অ্যাসিড ও ক্ষার-প্রতিরোধী বলে; সাধারণত পানি ও ভেজা কাপড়ই যথেষ্ট, আর পানির দাগ ও সাবানের অবশেষের জন্য বাথরুম ক্লিনার বা ভিনেগারভিত্তিক ক্লিনার চলে।[2] প্রতিষ্ঠানটি ঘষার ক্রিম ও পাউডার, খুব ঘন ড্রেন ক্লিনার, ট্যাপ বা স্টিলের ক্লিনার এবং পাউডার টয়লেট ক্লিনার এড়াতে বলে, আর নরম স্পঞ্জের পরামর্শ দেয়।[2] মরচে-রিমুভার ও কিছু টুথপেস্টের ফ্লোরাইডজাত উপাদান লেগে থাকলে সিরামিকে দাগ ফেলতে পারে, তাই দ্রুত মুছে ফেলুন।[2]

বেসিনে এসে পরামর্শ দুই দিকে টানে: ভিনেগার সিরামিকের বাটির জন্য ঠিক, কিন্তু হান্সগ্রোহের মতে তার ওপরের ক্রোমের ট্যাপের জন্য নয়; আবার ট্যাপ-ক্লিনার সিরামিকে পড়ে থাকা উচিত নয়।[1][2] তাই আগে ট্যাপ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন, তারপর বাটি।

স্টেইনলেস স্টিলের রেল, তাক ও গ্র্যাব বার

অনেক টাওয়েল রেল ও অ্যাক্সেসরি স্টেইনলেস স্টিল বা ক্রোম-প্লেট করা পিতলের তৈরি। অস্ট্রেলিয়ান স্টেইনলেস স্টিল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ASSDA) ব্যাখ্যা করে যে ব্লিচের সক্রিয় উপাদান ক্লোরিন স্টেইনলেস স্টিলের প্রতি খুবই আগ্রাসী, এবং ব্লিচমেশানো ধোয়ার পানি যেখানে জমে থাকে সেখানে ক্ষয় শুরু হতে পারে।[5] আশপাশের টাইলসে ব্লিচ ব্যবহার করলে ধাতব ফিটিংসে লাগা ছিটা ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

ছয় ধরনের ক্লিনার (সারি) ও তিন ধরনের উপাদান, অর্থাৎ ক্রোমের ট্যাপ, সিরামিকের বেসিন ও স্টেইনলেস স্টিলের রেল (কলাম) নিয়ে একটি ছক; প্রতিটি ঘরে সবুজ টিক, লাল ক্রস বা ধূসর সতর্কচিহ্ন দেখায় ক্লিনারটি সেই উপাদানে চলে কি না।
চিত্র 2 কোন ক্লিনার কোন উপাদানে চলে, উদ্ধৃত নির্মাতা ও সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী। সবসময় আপনার নিজের ফিটিং ও ক্লিনারের লেবেল আগে দেখুন।
  1. মৃদু ডিটারজেন্ট ও পানি
  2. মৃদু সাইট্রিক অ্যাসিডের ডিস্কেলার (অল্প সময় রেখে ধুয়ে ফেলুন)
  3. ভিনেগার বা ভিনেগারভিত্তিক ক্লিনার (অ্যাসেটিক অ্যাসিড)
  4. ক্লোরিন ব্লিচ
  5. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডযুক্ত বা কড়া অ্যাসিডের টাইলস ও টয়লেট ক্লিনার
  6. ঘষার পাউডার, ক্রিম বা স্কাউরার প্যাড
  7. ক্রোম-প্লেট করা ট্যাপ ও শাওয়ার ফিটিংস
  8. গ্লেজ করা সিরামিকের বেসিন ও কমোড
  9. স্টেইনলেস স্টিলের রেল ও অ্যাক্সেসরি
  10. উদ্ধৃত সূত্র অনুযায়ী উপযুক্ত
  11. এড়িয়ে চলুন: উদ্ধৃত সূত্র অনুযায়ী ক্ষতি করতে পারে
  12. সাবধান: উদ্ধৃত সূত্রে স্পষ্ট বলা নেই বা কেবল সতর্কতার সঙ্গে; লুকানো জায়গায় পরখ করুন, অল্প সময় রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

নিয়মিত যত্নের যন্ত্রপাতি ও উপকরণ

  • নরম সুতির কাপড় ও দাগ না ফেলা স্পঞ্জ; একটি কাপড় শুধু ক্রোমের জন্য।
  • মৃদু তরল ডিটারজেন্ট, এবং সাইট্রিক অ্যাসিডের ডিস্কেলার বা ট্যাপ নির্মাতার ক্লিনার।
  • সাদা ভিনেগার, শুধু সিরামিকের জন্য।
  • পুরোনো নরম টুথব্রাশ ও কাঠের টুথপিক।
  • ভেজানোর জন্য ছোট বাটি, কিংবা প্লাস্টিকের ব্যাগ ও রাবার ব্যান্ড।
  • রাবারের গ্লাভস ও সেফটি চশমা।
  • স্ক্রু-ড্রাইভার ও অ্যাডজাস্টেবল স্প্যানার, আর প্লেটিং বাঁচাতে একটি কাপড়।
  • একটি টর্চ, আর রেকর্ড রাখতে খাতা বা ফোন।

ধাপে ধাপে: একটি ওয়াশরুমের যত্নের রুটিন

প্রথমবার প্রতিটি ওয়াশরুমে আধা ঘণ্টার মতো সময় রাখুন। এরপর বেশির ভাগ রুটিন আরও কম সময়ে হয়ে যায়।

  1. জানালা খুলুন বা এগজস্ট ফ্যান চালান, গ্লাভস পরুন, প্রসাধনী সরিয়ে রাখুন।
  2. প্রথমে পরিষ্কার পানিতে সব জায়গা ধুয়ে নিন, যাতে বালুকণা ঘষায় আবরণে দাগ না ফেলে।
  3. উপযুক্ত ক্লিনার কাপড়ে নিয়ে ট্যাপ ও শাওয়ার ফিটিংস মুছুন, লেবেলে যত সময় বলা আছে তার বেশি নয়, তারপর ধুয়ে শুকিয়ে নিন।[1]
  4. সিরামিক-উপযোগী ক্লিনার ও নরম স্পঞ্জে বেসিন ও কমোড পরিষ্কার করুন, কিনারার নিচে ও সিটের কবজার চারপাশসহ।[2]
  5. প্রতিটি ট্যাপ ও হেলথ ফসেটের ধারা দেখুন; থেমে থেমে এলে বা পাশে ছিটকালে ডিস্কেল করুন (নিচে দেখুন)।
  6. বেসিনের নিচে অ্যাঙ্গেল ভাল্‌ভ, হোস ও ট্র্যাপে শুকনো টিস্যু বুলিয়ে নিন; সামান্য চুইয়ে পড়াও ধরা পড়ে।
  7. সিস্টার্ন ভরার পর কান পাতুন; এটি চুপ হয়ে যাওয়া উচিত। না হলে দেখুন কমোডের ফ্লাশের সমস্যা নিয়ে গাইড।
  8. ফ্লোর ট্র্যাপের জালি থেকে চুল সরিয়ে এক মগ পানি ঢালুন, যাতে ট্র্যাপের পানির সিল বজায় থাকে।
  9. প্রতিটি রেল, হুক, আয়না ও কেবিনেট আলতো টেনে দেখুন; ঢিলে স্ক্রু হাতে টাইট করুন, টাইলসে অতিরিক্ত টাইট নয়।
  10. ফ্যান বন্ধ রেখে এগজস্ট ফ্যানের গ্রিল মুছুন, আর হিটারের ডিসচার্জ পাইপ ও প্লাগে একবার চোখ বুলান।
  11. নরম কাপড়ে ক্রোম শুকিয়ে মুছুন, আর কী মেরামত দরকার লিখে রাখুন।

ট্যাপ, এরেটর ও স্প্রে-হেড ডিস্কেল করা

চুনের আস্তর (limescale) হলো খরপানির রেখে যাওয়া খনিজ, মূলত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, এটি ফিটিংসে জমে এবং ওয়াটার হিটারে আস্তর তৈরি করে কার্যক্ষমতা কমায়।[9] পানি কতটা খর তা উৎসের ওপর নির্ভর করে, তাই কত দিন পরপর ডিস্কেল করবেন তা নিজের ফিটিংস দেখেই বুঝুন।

এরেটর হলো ট্যাপের মুখে লাগানো ছোট জালি। এতে চুন জমলে পানি ধীরে পড়ে এবং নানা দিকে ছিটকায়।[3] পরিষ্কার করতে:

  1. বেসিনের প্লাগ বন্ধ করুন, যাতে ছোট যন্ত্রাংশ বর্জ্য-পাইপে না পড়ে।
  2. ট্যাপের মুখে কাপড় জড়িয়ে হাতে, বা কাপড়ের ওপর দিয়ে রেঞ্চে, এরেটর খুলুন।[3] না খুললে জোর না করে থামুন।
  3. জালি বা ইনসার্ট, হাউজিং নাট ও রাবার ওয়াশার আলাদা করুন, কোনটা কোন ক্রমে ছিল মনে রাখুন।[3]
  4. সাইট্রিক অ্যাসিডে ভেজান; কারচার (Kärcher) ১০০ মিলি গরম পানিতে আধা টেবিল-চামচ পাউডার মিশিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট রাখার পরামর্শ দেয়।[3]
  5. জালি ব্রাশ করুন, টুথপিকে ছিদ্র খুলুন, ধুয়ে ওয়াশারসহ আগের ক্রমে লাগান।[3]
  6. যে মাথা খোলা যায় না, তাতে দ্রবণভরা ব্যাগ বেঁধে নজল ডুবিয়ে রাখুন, ক্রোমে সময় কম রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।[3][1]
এরেটর ডিস্কেল করার ধাপ: চুন জমা এরেটর থেকে পানি ছিটকে পড়ছে, কাপড় জড়িয়ে খোলা হচ্ছে, হাউজিং নাট, জালি ও রাবার ওয়াশার আলাদা করে দেখানো, সাইট্রিক অ্যাসিডের বাটিতে ভেজানো, টুথব্রাশে জালি পরিষ্কার, আর আবার লাগানোর পর সোজা ধারা।
চিত্র 3 এরেটর খুলে ভেজান, ব্রাশ করুন, আর একই ক্রমে আবার লাগান। জোড়ার কাছে কাপড় জড়ালে ক্রোমে দাগ পড়ে না।
  1. চুন জমা এরেটর: পানি থেমে থেমে আসে ও পাশে ছিটকায়
  2. খোলার সময় ট্যাপের মুখে জড়ানো কাপড়
  3. এরেটরের হাউজিং নাট
  4. জালি বা ইনসার্ট, যেখানে চুনের কণা আটকে থাকে
  5. রাবার ওয়াশার: আবার লাগাতে ভুলবেন না
  6. সাইট্রিক অ্যাসিডের গরম দ্রবণে ভেজানো যন্ত্রাংশ
  7. অল্প সময় ভেজান, প্রায় ১৫ মিনিট বা চুন নরম হওয়া পর্যন্ত
  8. নরম টুথব্রাশে জালি ব্রাশ করে ধুয়ে নিন
  9. আবার লাগানোর পর সোজা, সমান ধারা
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

কারচার ভিনেগারের কথাও বলে, কিন্তু হান্সগ্রোহে অ্যাসেটিক অ্যাসিডকে তাদের ফিটিংসের ক্ষতিকর ক্লিনারের তালিকায় রেখেছে বলে এই গাইড প্লেট করা যেকোনো অংশে সাইট্রিক অ্যাসিডের পরামর্শ দেয়।[3][1] সমস্যা এরেটরে না হয়ে কার্ট্রিজ বা ভাল্‌ভে হলে দেখুন ট্যাপ, শাওয়ার ও ভাল্‌ভ রক্ষণাবেক্ষণ।

হেলথ ফসেট, কমোড ও ফ্লোর ট্র্যাপ

হেলথ ফসেট (হ্যান্ড স্প্রে)

কমোডের পাশের হ্যান্ড স্প্রে দিনে বহুবার ব্যবহার হয়, আর এর হোস প্রায়ই চাপের মধ্যে থাকে। একটি হেলথ ফসেটের জন্য কোহলারের (Kohler) ইনস্টলেশন নির্দেশিকা সর্বোচ্চ কার্যচাপ ৫ বার নির্ধারণ করে, এর বেশি হলে প্রেশার রিডিউসার লাগাতে বলে, হোসের মাথায় ফ্লো রেগুলেটর ও ওয়াশার দেখায়, আর স্প্রেটি হিটারের কাছে রাখতে নিষেধ করে।[8] মাথাটি মুছুন, নজল পরিষ্কার করুন, হোস মোচড়ানো বা ঘষা খাচ্ছে কি না দেখুন, আর ভাল্‌ভ ও হোসের দুই মাথায় ফোঁটা খেয়াল করুন। পুরোনো হোস বদলানো সস্তা; ফেটে গেলে মেঝে ভেসে যায়।

কমোডের প্যান ও সিট

সিরামিক-উপযোগী টয়লেট ক্লিনার দিয়ে প্যান পরিষ্কার করুন; গ্লেজে দাগ ফেলে এমন পাউডার ও স্কাউরার এড়িয়ে চলুন, আর কড়া ড্রেন বা ট্যাপ-ক্লিনার বাটিতে ফেলে রাখবেন না।[2] সিটের কবজা ও ফিক্সিং নাট ব্যবহারে ঢিলে হয়, সেগুলো দেখুন, আর প্যান যেখানে মেঝেতে বসেছে সেই জোড়ায় দাগ আছে কি না খেয়াল করুন।

ফ্লোর ট্র্যাপ

ফ্লোর ট্র্যাপে সামান্য পানি জমে থাকে, যা ড্রেনের গন্ধ আটকায়। নিয়মিত জালি পরিষ্কার করুন, আর কম ব্যবহৃত ওয়াশরুমে এক-দুই সপ্তাহ পরপর পানি ঢালুন যাতে সিল শুকিয়ে না যায়। গন্ধ না গেলে বা পানি ধীরে নামলে দেখুন ড্রেনের দুর্গন্ধ খোঁজা ও দূর করা এবং বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার করা।

বিজ্ঞাপন

টাওয়েল রেল, আয়না, কেবিনেট ও এগজস্ট ফ্যান

দেয়ালের ফিটিংস প্লাস্টিকের ওয়াল প্লাগে বসানো স্ক্রুতে ঝোলে, আর বাষ্প ও ভেজা তোয়ালের ভারে ধীরে ধীরে ঢিলে হয়। রেল নড়লে স্ক্রু টাইট করুন; প্লাগ ঘুরলে নতুন বা বড় প্লাগ লাগবে, যার জন্য টাইলস ড্রিল করতে হতে পারে। মানুষ ভর দেয় এমন গ্র্যাব রেল এমন কাউকে দিয়ে লাগান, যিনি নিশ্চিত করতে পারেন যে এটি একজন মানুষের ভার নেবে।

কিনারা দিয়ে পানি ঢুকলে আয়নার পেছনের রুপালি প্রলেপ কালো হয়ে যেতে পারে, তাই গ্লাস ক্লিনার আয়নায় নয়, কাপড়ে স্প্রে করুন। কেবিনেটের কবজা ও তাকের সাপোর্ট টাইট আছে কি না দেখুন।

এগজস্ট ফ্যান ছত্রাক জন্মানোর আর্দ্রতা বের করে দেয়; মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA) গোসলের সময় ফ্যান চালানো বা জানালা খোলার পরামর্শ দেয়।[10] কয়েক মাস পরপর ফ্যান বন্ধ করে গ্রিলের ধুলা মুছুন। ফ্যানের মাপ ও কতক্ষণ চালাবেন, তা আছে বাথরুমে ছত্রাক প্রতিরোধ গাইডে। ফ্যান গুনগুন করে কিন্তু ঘোরে না বা গরম গন্ধ ছাড়ে, তাহলে বন্ধ রেখে ইলেকট্রিশিয়ান ডাকুন।

ওয়াটার হিটার (গিজার) নিরাপত্তার মূল কথা

ঢাকার অনেক ফ্ল্যাটে অন্তত একটি ওয়াশরুমে দেয়ালে ঝোলানো বৈদ্যুতিক স্টোরেজ ওয়াটার হিটার থাকে। এতে চাপ, তাপ ও বিদ্যুৎ একসঙ্গে থাকে, তাই মালিকের কাজ পর্যবেক্ষণ ও সহজ পরীক্ষা; স্থাপন ও সার্ভিসিং যোগ্য টেকনিশিয়ানের কাজ। এমন একটি হিটারের জন্য এক নির্মাতার (ইলেকট্রোলাক্স) ম্যানুয়াল দেখায় কী কী দেখভাল করতে হয়।[7]

  • সেফটি ভাল্‌ভ: ঠান্ডা পানির ইনলেটের এই একমুখী ভাল্‌ভ চাপ বেশি বাড়লে পানি বের করে দেয়। ম্যানুয়াল অনুযায়ী চুন সরাতে ও এটি আটকে নেই নিশ্চিত করতে নিয়মিত চালিয়ে দেখতে হয়; গরম হওয়ার সময় কিছু ফোঁটা পড়া স্বাভাবিক, আর এর মুখ কখনো বন্ধ করা যাবে না।[7]
  • ডিসচার্জ পাইপ: এটি একটানা নিচের দিকে নেমে ড্রেনে যাওয়া উচিত।[7]
  • আর্থ-লিকেজ ব্রেকার (ELCB): টেস্ট বাটন থাকলে নিয়মিত চাপুন; হিটার বন্ধ হওয়া উচিত, আর রিসেট বাটনে আবার চালু হয়।[7]
  • প্লাগ, সকেট ও তার: এগুলো অক্ষত, গরম হয় না, আর আর্থিং করা আছে কি না দেখুন।[7] তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নির্মাতা, তাদের এজেন্ট বা সমান যোগ্য কাউকে দিয়ে বদলাতে হবে।[7]
  • সার্ভিস: ম্যানুয়াল প্রতি বছর হিটিং যন্ত্রাংশের আস্তর পরিষ্কার করতে, আর ট্যাংককে ক্ষয় থেকে রক্ষাকারী ম্যাগনেসিয়াম অ্যানোড রড অন্তত ছয় মাসে একবার অনুমোদিত সার্ভিস দিয়ে পরীক্ষা করাতে বলে।[7]
  • ফিক্সিং: হিটারটি এমন শক্ত দেয়ালে ঝোলাতে হবে, যা পানিভর্তি অবস্থার দ্বিগুণ ওজন বইতে পারে।[7] বোল্টের চারপাশে মরচের দাগ, হেলে পড়া বা প্লাস্টারে ফাটল দেখলে ব্যবহার বন্ধ করে স্থাপনকারীকে ডাকুন।
  • তাপমাত্রা: মার্কিন কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (CPSC) প্রায় ৪৯ °C (১২০ °F) রাখার আহ্বান জানায়, এবং বলে বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় ৬৬ °C (১৫০ °F) পানিতে দুই সেকেন্ডে আর ৬০ °C (১৪০ °F) পানিতে ছয় সেকেন্ডে তৃতীয় মাত্রার পোড়া হয়।[6] শিশু বা বয়স্ক কাউকে গোসল করানোর আগে হাত দিয়ে পানি পরখ করুন।[6]
দেয়ালে বোল্ট দিয়ে ঝোলানো বৈদ্যুতিক স্টোরেজ ওয়াটার হিটারের ছবি: ভেতরে হিটিং এলিমেন্ট ও অ্যানোড রড, নিচে তাপমাত্রার নব, ঠান্ডা পানির ইনলেটে আইসোলেশন ভাল্‌ভ ও সেফটি ভাল্‌ভ, ড্রেনে নামা ডিসচার্জ পাইপ, মিক্সারে যাওয়া গরম পানির পাইপ, টেস্ট বাটনসহ আর্থ-লিকেজ ব্রেকার ও প্লাগ, আর ৪৯ °C দেখানো থার্মোমিটার।
চিত্র 1 বৈদ্যুতিক স্টোরেজ গিজারের যে অংশগুলো মালিক দেখে রাখবেন। ভেতরের যন্ত্রাংশ ও তারের কাজ সবসময় টেকনিশিয়ানের।
  1. শক্ত দেয়াল ও মাউন্টিং বোল্ট, যা পানিভর্তি হিটারের দ্বিগুণ ওজন বইতে পারে
  2. পানির ট্যাংক
  3. তাপমাত্রার নব
  4. হিটিং এলিমেন্ট (ভেতরে): বার্ষিক সার্ভিসে আস্তর পরিষ্কার হয়
  5. ম্যাগনেসিয়াম অ্যানোড রড (ভেতরে): টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করান
  6. ঠান্ডা পানির ইনলেট ও আইসোলেশন ভাল্‌ভ
  7. লিভারসহ একমুখী সেফটি ভাল্‌ভ
  8. একটানা নিচের দিকে ড্রেনে নামা ডিসচার্জ পাইপ; এর মুখ কখনো বন্ধ করবেন না
  9. মিক্সারে যাওয়া গরম পানির আউটলেট
  10. টেস্ট ও রিসেট বাটনসহ আর্থ-লিকেজ ব্রেকার এবং পানির ছিটা থেকে দূরে প্লাগ ও সকেট
  11. গোসলের আগে কলে পানির তাপমাত্রা পরখ করুন; প্রায় ৪৯ °C রাখার পরামর্শ আছে
RUAP.NET-এর জন্য আঁকা মৌলিক চিত্র

প্রতিরোধ: ওয়াশরুম রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি

চার বাথরুমের ফ্ল্যাটে সপ্তাহে একটি করে ওয়াশরুম ধরলে মাসে প্রতিটির পূর্ণ রুটিন হয়ে যায়। তালিকাটি প্রতিটি ওয়াশরুমের জন্য।

ওয়াশরুম ফিটিংস: নিয়মিত যত্ন
  • সাপ্তাহিক: উপাদান-উপযোগী ক্লিনারে ট্যাপ, বেসিন ও কমোড পরিষ্কার; ফ্লোর ট্র্যাপের জালি পরিষ্কার।
  • সাপ্তাহিক: কম ব্যবহৃত ওয়াশরুমে পানি ঢালুন, যাতে ট্র্যাপ ভরা থাকে।
  • মাসিক: প্রতিটি ট্যাপ ও হেলথ ফসেটের ধারা দেখুন; বদলে গেলে ডিস্কেল করুন।
  • মাসিক: ভাল্‌ভ, হোস ও ট্র্যাপে শুকনো টিস্যু বুলান; প্রতিটি সিস্টার্নে কান পাতুন।
  • মাসিক: হিটারের আর্থ-লিকেজ টেস্ট বাটন চাপুন, যদি থাকে।[7]
  • ম্যানুয়ালের নির্দেশমতো: হিটারের সেফটি ভাল্‌ভ চালিয়ে দেখুন, ডিসচার্জ পাইপ ড্রেনে যাচ্ছে নিশ্চিত করে।[7]
  • কয়েক মাস পরপর: ফ্যানের গ্রিল পরিষ্কার; রেল, আয়না ও কেবিনেট শক্ত আছে কি না দেখুন।
  • ছয় মাস পরপর: হিটারের অ্যানোড পরীক্ষা করান।[7]
  • বার্ষিক: হিটার ডিস্কেল ও সার্ভিস করান; পুরোনো হোস বদলান।
  • প্রতি বর্ষার আগে: আর্দ্র মাসগুলোর জন্য এগজস্ট ফ্যান ঠিকমতো চলছে কি না নিশ্চিত করুন।

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • সবখানে একই কড়া ক্লিনার: অ্যাসিডযুক্ত টাইলস ও টয়লেট ক্লিনার ক্রোমের ক্ষতি করতে পারে, আর ট্যাপ-ক্লিনার সিরামিকে পড়ে থাকা উচিত নয়।[1][2]
  • সরাসরি ট্যাপে ক্লিনার স্প্রে করা, যাতে তা জোড়ায় ঢুকে যায়।[1]
  • ঘষার পাউডার বা সবুজ স্কাউরারে ক্রোম বা কমোডের গ্লেজ ঘষা।[1][2]
  • ব্লিচের সঙ্গে অ্যাসিড বা অ্যামোনিয়াযুক্ত ক্লিনার মেশানো, বা একটির ঠিক পরেই অন্যটি ব্যবহার।[4]
  • স্টেইনলেস স্টিলে ব্লিচের ছিটা শুকাতে দেওয়া।[5]
  • আটকে থাকা এরেটর খালি প্লায়ার্সে জোর করে খোলা।
  • পানি এখনো গরম হচ্ছে বলে হিটারের ফোঁটা বা গরম প্লাগ উপেক্ষা করা।

মেরামত, বদল, নাকি পেশাদার ডাকবেন?

নিয়মিত যত্নে ফিটিংস বেশি দিন চলে, তবে কিছু ত্রুটিতে যন্ত্রাংশ বা দক্ষতা লাগে। নিচের সারণিতে দেখানো হয়েছে নিয়মিত যত্ন কোথায় শেষ।

ওয়াশরুম ফিটিংস: আপনি কী করতে পারেন আর কখন সাহায্য নেবেন
ফিটিংআপনার নিয়মিত যত্নকখন মেরামত বা বদলকাকে ডাকবেন
ট্যাপ বা মিক্সারউপযুক্ত ক্লিনারে পরিষ্কার, এরেটর ডিস্কেল[1][3]বন্ধ অবস্থায় ফোঁটা পড়ে, হাতল শক্ত, বা ক্রোম উঠে যাচ্ছেপ্লাম্বার; ট্যাপের গাইড দেখুন
হেলথ ফসেটমাথা ডিস্কেল, হোস ও ওয়াশার পরীক্ষাহোস ফুলে বা ফেটে গেছে, মাথায় লিক; ট্রিগার আটকে যায়সাধারণত সহজ যন্ত্রাংশ বদল; ভাল্‌ভ লিক করলে প্লাম্বার
বেসিন ও কমোডসিরামিক-উপযোগী পণ্যে পরিষ্কার[2]সিরামিক ফাটা বা গ্লেজ ভেদ করে চটে গেছে, কিংবা প্যান নড়েপ্লাম্বার
ফ্লোর ট্র্যাপজালি পরিষ্কার, ট্র্যাপে পানি রাখাগন্ধ যায় না বা পানি ধীরে নামেপ্লাম্বার; ড্রেনের গাইড দেখুন
টাওয়েল রেল, আয়না, কেবিনেটস্ক্রু টাইট, ধাতু ধোয়া ও শুকনো রাখা[5]প্লাগ দেয়ালে ঘোরে, বা জিনিসটি মরচে ধরে ক্ষয়ে গেছেমিস্ত্রি বা প্লাম্বার
এগজস্ট ফ্যানফ্যান বন্ধ রেখে গ্রিল পরিষ্কার[10]শব্দ করে, ধীরে চলে, গরম হয় বা থেমে যায়ইলেকট্রিশিয়ান
ওয়াটার হিটারলিক খেয়াল রাখা, ELCB টেস্ট বাটন চাপা, ডিসচার্জ পাইপ খোলা রাখা[7]ট্যাংক থেকে লিক, ব্রেকার ট্রিপ করে, বা ডিস্কেল ও অ্যানোড পরীক্ষার সময় হয়েছেনির্মাতার সার্ভিস বা যোগ্য টেকনিশিয়ান

মূল অংশ ফেটে গেলে, প্লেটিং ভেদ করে ক্ষয় হলে, যন্ত্রাংশ আর তৈরি না হলে বা একই অংশ বারবার নষ্ট হলে মেরামতের বদলে বদলান। অজানা জায়গা থেকে পানি বেরোলে শুরু করুন বাথরুমের লিক খোঁজা ও সারানো গাইড দিয়ে। ফ্ল্যাটের ভেতরের ফিটিংয়ের খরচ কে দেবেন, তা আছে আমাদের ফ্ল্যাট রক্ষণাবেক্ষণ গাইডে।

যত্ন ও মেরামতের খরচ কীসের ওপর নির্ভর করে

বাংলাদেশে ওয়াশরুম রক্ষণাবেক্ষণের নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত দাম আমরা খুঁজে পাইনি, তাই এই গাইডে কোনো অঙ্ক দেওয়া হয়নি। তুলনামূলক খরচ অবশ্য পরিষ্কার:

  • নিয়মিত যত্নে ক্লিনার ও সময় ছাড়া খরচ সামান্য; এটি যা ঠেকায়, যেমন ভুল ক্লিনারে নষ্ট মিক্সার বদলানো, তার খরচ অনেক বেশি।
  • এরেটর, হোস, ওয়াশার বা ওয়াল প্লাগের মতো ছোট যন্ত্রাংশের দাম পুরো ফিটিংয়ের চেয়ে অনেক কম।
  • আপনার ব্র্যান্ড ও মডেলের সঙ্গে মেলানো যন্ত্রাংশের দাম সাধারণটির চেয়ে বেশি হতে পারে, তবে বারবার মিস্ত্রি ডাকা এড়ায়।
  • টাইলসের পেছনে বা দেয়ালের ভেতরের কাজে খোলা অংশের চেয়ে বেশি খরচ।
  • ওয়াটার হিটারের কাজে সাধারণত কল-আউট চার্জ থাকে, আর কিছু ওয়ারেন্টি নির্মাতার নিজস্ব এজেন্টের সার্ভিসিংয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন ইলেকট্রোলাক্সের ম্যানুয়াল অ্যানোড পরীক্ষার ক্ষেত্রে বলে।[7]

যন্ত্রাংশ, ব্র্যান্ড ও ওয়ারেন্টির উল্লেখসহ লিখিত কোটেশন নিন। কীভাবে তুলনা করবেন, তা আছে মেরামতের কোটেশন নেওয়া ও তুলনা করা গাইডে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

  1. আজই: ফিটিংস কোন উপাদানের তা দেখুন, প্রতিটি ওয়াশরুমের ক্লিনারের লেবেল পড়ুন; ব্লিচ অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়াযুক্ত পণ্য থেকে আলাদা রাখুন।[4]
  2. এই সপ্তাহে: একটি ওয়াশরুমে পূর্ণ রুটিন করুন এবং কী মনোযোগ চায় লিখে রাখুন।
  3. যে এরেটর বা স্প্রে-হেডের ধারা বদলে গেছে, সেটি ডিস্কেল করুন।
  4. হিটারের ম্যানুয়াল খুঁজুন, আর্থ-লিকেজ টেস্ট বাটন থাকলে চাপুন, আর সময় হলে সার্ভিস বুক করুন।
  5. সপ্তাহে একটি ওয়াশরুমের জন্য রিমাইন্ডার সেট করুন।
  6. লিখিত কোটেশন নিয়ে মেরামত সঠিক লোকের হাতে দিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ক্রোমের ট্যাপ কি ভিনেগার দিয়ে পরিষ্কার করা যায়?
কিছু ট্যাপ নির্মাতা এর বিপক্ষে। হান্সগ্রোহে ভিনেগারের অ্যাসিড, অর্থাৎ অ্যাসেটিক অ্যাসিডকে তাদের ফিটিংসের ক্ষতিকর ক্লিনারের তালিকায় রেখেছে, এবং মৃদু সাইট্রিক অ্যাসিড ক্লিনার সর্বোচ্চ ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেয়।[1] ভিলেরয় অ্যান্ড বখের মতে গ্লেজ করা সিরামিকে ভিনেগার ঠিক আছে, তাই এটি বেসিন ও কমোডেই সীমিত রাখুন।[2] নিজের ট্যাপের যত্ন-নির্দেশিকা দেখে নিন।
ওয়াশরুমের ফিটিংসে ব্লিচ ব্যবহার কি নিরাপদ?
সাবধানে ব্যবহার করুন, আর কখনো অন্য ক্লিনারের সঙ্গে নয়। হান্সগ্রোহে বলে ক্লোরিন ব্লিচ তাদের ট্যাপের ক্ষতি করতে পারে, আর ASSDA জানায় ক্লোরিন স্টেইনলেস স্টিলের প্রতি খুবই আগ্রাসী।[1][5] হেলথ কানাডা সতর্ক করে যে অ্যাসিড বা অ্যামোনিয়াযুক্ত ক্লিনারের সঙ্গে ব্লিচ মেশালে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়।[4] টাইলস বা কমোডে ব্যবহার করলে পরে ধাতব ফিটিংস ধুয়ে নিন।
এরেটর কত দিন পরপর ডিস্কেল করা উচিত?
নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই; এটি নির্ভর করে আপনার পানি কতটা খর তার ওপর।[9] মাসে একবার প্রতিটি ট্যাপের ধারা দেখুন। ধারা থেমে থেমে এলে, পাশে ছিটকালে বা ধীর হলে এরেটর পরিষ্কারের সময় হয়েছে।[3]
গিজার কত তাপমাত্রায় রাখা উচিত?
মার্কিন কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে প্রায় ৪৯ °C (১২০ °F) রাখার পরামর্শ দেয়, এবং বলে এই তাপমাত্রার পানিতেও পাঁচ মিনিট থাকলে গুরুতর পোড়া হতে পারে।[6] বাইরের নব থাকলে তা দিয়ে সেট করুন, আর বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য গোসলের পানি হাত দিয়ে পরখ করুন।
গিজারের নিচের সরু পাইপ দিয়ে পানি পড়ছে। এটা কি লিক?
সবসময় নয়। অনেক স্টোরেজ হিটারে গরম হওয়ার সময় সেফটি ভাল্‌ভের ডিসচার্জ পাইপ দিয়ে সামান্য ফোঁটা পড়া স্বাভাবিক, আর পাইপটি ড্রেনে যাওয়া উচিত।[7] কিন্তু ট্যাংকের গা, জোড়া বা প্লাগের কাছ থেকে পানি এলে ব্যাপারটি আলাদা: বিদ্যুৎ বন্ধ করে সার্ভিস এজেন্ট ডাকুন।

তথ্যসূত্র

এই গাইডের তথ্যগুলো নিচের উৎসগুলো থেকে যাচাই করা হয়েছে।

  1. Cleaning & maintenance - FAQ — Hansgrohe. দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  2. Cleaning Ceramic: How to Clean Your Bathroom Properly — Villeroy & Boch (প্রকাশিত 2024-06-05). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  3. Descaling taps — Kärcher. দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  4. Reduce your risk from toxic gases: Never mix bleach with other cleaning products — Health Canada (Government of Canada) (প্রকাশিত 2021-02-08). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  5. Chlorine And Chloride: Same Element, Very Different Effect — Australian Stainless Steel Development Association (ASSDA). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  6. Avoiding Tap Water Scalds (Publication 5098) — US Consumer Product Safety Commission (প্রকাশিত 2012-03). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  7. EYE05021WE / EYE10021WE Electric Storage Water Heater: Installation Guide & User Manual — Electrolux (Indonesia). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  8. Installation Instructions: Health Faucet 12925ME / 12927ME — Kohler (Middle East). দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  9. Hardness of Water — US Geological Survey (USGS) Water Science School. দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
  10. A Brief Guide to Mold, Moisture and Your Home — US Environmental Protection Agency. দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬.
একটি সতর্কতা

এই গাইড সাধারণ তথ্যের জন্য। গ্যাস, ভবনের কাঠামো বা চালু বিদ্যুৎ সংযোগে কাজ দক্ষ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার দিয়ে করান। আপনার ভবনের নিয়ম বা কমিটির সিদ্ধান্ত এখানে লেখা কথার চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

উদ্ধৃত সূত্রগুলোর ভিত্তিতে RUAP.NET সম্পাদকীয় দল এটি লিখেছে। কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ান এটি পর্যালোচনা করেননি; গ্যাস, কাঠামো বা চালু বিদ্যুৎ-লাইনের কাজে যোগ্য পেশাদারের সাহায্য নিন।

কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান — আমরা যাচাই করে সংশোধন করি এবং সংশোধনের তারিখ লিখে রাখি। ভুল জানান →

০২

সম্পর্কিত গাইড

গাইড: ফ্ল্যাট রক্ষণাবেক্ষণ

বিজ্ঞাপন